‘এক বৃক্ষ দশ পুত্র সম’
প্রাচীন প্রবাদ বাক্য মতে, একটি গাছ দশ’টি ছেলের সমান। দশ পুত্র বলতে সম্ভবতঃ তাদের দৈহিক/ কায়িক/ উপার্জন এবং আনুষঙ্গিক যাবতীয় সব সক্ষমতা-কেই বোঝানো হয়েছে; এবং প্রকারান্তরে এক প্রকারের
বৃক্ষ নিধন বিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসও করা হয়েছিল। তার মানে, এটাও স্পষ্ট যে, অতীতে কোন কালে হয়তো বা এক
সময় বৃক্ষ নিধন মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়ে গিয়েছিল, সম্ভবত, তাই সেই সময়ের ঐ সংরক্ষণ বার্তা!
গড়পড়তা হিসেবে, একটি মোটামোটি বড়সড় গাছ, অক্সিজেন, নির্মল বাতাস, জল চক্র, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, ভুমিক্ষয় প্রতিরোধ, বন্য জন্তুর বাসস্থান, বিষাক্ত বায়ু পরিশোধন এবং এ জাতীয় অনেক বাস্তুতান্ত্রিক পরিষেবা দেয়, নগদ অর্থমূল্যে
যার পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি
৮০ লক্ষ টাকা (আনুমানিক, ১৯,৬২,১৫০ মার্কিন
ডলার)। অন্যদিকে, ঐ গাছটাই
যদি কেটে বাজারে বিক্রি করা হয়, তবে গড়ে যে টাকা পাওয়া যায় তা হল আনুমানিক
৩৫,৪০০ টাকা (আনুমানিক, ৫৯০ মার্কিন
ডলার)। এবার এই ৩৫
হাজার বনাম প্রায় ১২ কোটি, এই দুই আর্থিক মাপদন্ডের মধ্যে আমাদের সমাজ কিন্তু ৩৫ হাজারকেই বেছে নিয়েছে। এই বাস্তব
কে কি অস্বীকার করা যায়? যুক্তি-তর্কের নিরিখে
এটা কি তাই দাঁড়ালো না, যে আমরা নিজেদের
যদি পিতা (অথবা মাতা) বলে ধরে নেই, তবে গাছ আমাদের কাছে পুত্র তুল্য ! আবার গাছ যদি পুত্র সম-ই হয়, তাহলে পুত্র হত্যা-র নামে এ কেমন
নিষ্ঠুর তাণ্ডব লীলা? এই পৃষ্টপোষকতা সুসভ্য মনুষ্যকুল
আর কতদিন চালিয়ে
যাবে ?

No comments:
Post a Comment