Tuesday, September 2, 2014

‘জোঁক-তালই’ উপাখ্যান।

বাড়িতে পা রাখার দিন থেকেই নাছোড়বান্দা জোঁক তালই-মসাই-কে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। দুই দুই বার জোঁকের মুখে চুন দিয়েছিলেন ‘তালই-শ্রী’। লাভ হয় নি। হাই-টেক জোঁক তার ‘হিরুডিন’, অর্থাৎ, মুখের লালা দিয়ে নিমিষের মধ্যেই চুন-কে দুধ-ভাত বানিয়ে দিয়েছিল। দুধ, আর চুন, দুটোই সাদা, তাই দু দু বারই, জোঁকের ঐ কুকর্ম সুশীল-বাবুদের চোখে পরে নি!  
তালই আসার আগে এ বাড়িটাতে থাকতেন, উনারই দুঃসম্পর্কিত এক আত্মীয়। সে দিনগুলো ছিল হাই টেক জোঁকের পোয়া-বারো । রক্তপিপাসু জোঁক সেই দিনগুলো বিভিন্ন স্বাদের তরল লোহিত চেটেপুটে গায়ে গতরে বেশ অনেকটাই বড় হয়েছে। বড় হয়েছে সংসারের দিক দিয়েও। এখন অবশ্য সেরকম নেই। তবুও নেহাৎ  মন্দ নয়!
‘তালই-শ্রী’ ইদানিং আশ্রিত জোঁককে নিয়ে খুব একটা বিব্রত নন। কোথায় জানি কি করে জোঁক-তালই-য়ে তালগোল পেকে একটা মৌখিক চুক্তি হয়ে গেছে। জোঁক বলেছে, যদিও আমি আপনারই পোস্য পরজীবী, তাই হয়তো বা আপনার জামা কাপড়ের উপর আমি ‘লুপিং মুভমেন্ট’ করে বেড়াবো, কিন্তু তরল লোহিত চেটেপুটে খাব অন্যজায়গা থেকে। তালই দেখলেন, ‘আরে তাতে তো  আমার ক্ষতি বিশেষ নেই। তালই-র স্বগতোক্তি, “এ বাড়িতে আমি আর ক’দিন থাকি? একাজে-অকাজে প্রায়ই তো হিল্লি-দিল্লী যেতে হয়। আমার গায়ে চেপে চড়ে বেড়ানোর জন্য বেচারা আমাকে আর কদিন-ই বা পাবে”...।
এভাবেই দিনগুলো কাটছে, বছর দুয়েক হল...।
কিন্তু বিপত্তি ঘটাল  জোঁকের অনাকাঙ্খিত এক অভিপ্রায়ে...
নিত্যদিনের মতই শার্টের উপর ‘লুপিং’ করে বেড়াচ্ছে পরজীবী ঐ প্রাণীটি। ঘুরতে ঘুরতে শার্টের কলারে চেপে একেবারে কানের কাছে চলে এল। ফিসফিস করে বলল, “শুনুন, খবর পেয়েছি, সম্প্রতি NDA আর UPA নাকি এক হয়ে গেছে... এদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়ে গেছে। সেরেছে, এইবার তো বাঘে- গরুতে এক ঘাটে জল খাবে। তবে আমার অবশ্য অসুবিধে নেই... আমি তো দু ভিন্ন স্বাদের রক্ত এক জায়গায়ই পেয়ে যাব। বরং ভালই হল। সমস্যা তো আপনার”...।
তালই-মসাই সব সুনে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন...।
কথাগুলো শেষ করে তর-তর করে শার্টের গা বেয়ে জোঁক  নেমে পড়লো.....।।
আবার একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন তালই-শ্রী ...।।
এরপর একটু মুচকি হাসি হাসলেন...।
আশ্রিত পরজীবী-কে ডেকে বললেন, সমস্যা তো গভীর বটেই; কিন্তু এর  জন্য তো কিছু সাহসী পুরুষ চাই।
- সে আমি দেখছি,  আপনি একটুও ভাববেন না...।
-আরে আপনি দেখবেন কোত্থেকে ? আপনি তো ‘Hermaphorodite’, উভয়লিঙ্গ প্রজাতির। ‘হা-র-মা-ফ-র-ডা-ই-ট’-দের দিয়ে এ সমস্যার মোকাবিলা কি সম্ভব?
সমস্যা যে আদৌ সমস্যা নয়, তালই মশাই তো কবেই বুঝে গেছেন, সম্ভবত মুচকি হাসিও তাই হেসেছেন...
কিন্তু ‘বৃহন্নলা’ –কে নিরস্ত্র করার জন্য এরকম কিছু তো একটা বলতে  হবে...

অবশ্য তালই-শ্রীর এ কথায় জোঁক বাবাজী-র কি প্রতিক্রিয়া, তা জানা গেলো না...। তর-তরিয়ে ‘লুপিং’- করে করে সে ততক্ষনে বড় চেয়ারের পায়া বেয়ে উঠতে শুরু করল...!
[‘তালই, মাঐ, পুত্রা, ঝিয়ারি জাতীয় সিলেটী শব্দ-গুলো আজ কালকের  নবপ্রজন্মের কাছে 'অবলুপ্ত শব্দের' তালিকায়। কৌতুক রচনায় তাই এ  শব্দ গুচ্ছের ব্যবহারেরপুনর্প্রচেষ্টা করা হল। অন্য কোন অভিপ্রায়ে নয়...’।]